এইমাত্র পাওয়া
PropellerAds

এমপির শপথ নিলেন ঐক্যফ্রন্টের সুলতান

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী গণফোরাম নেতা সুলতান মো.মনসুর।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার দপ্তরে সুলতান মনসুরকে শপথবাক্য পাঠ করান।

ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে জয়ী হন সুলতান মনসুর। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ায় সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে তার।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের এক সময়ের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে যোগ দেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনে লড়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও মোকাব্বির খান।

মোকাব্বির খান সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন থেকে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। সম্প্রতি মনসুর ও মোকাব্বের দুইজনই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ মুহূর্তে শপথের আগের দিন বুধবার শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান মোকাব্বির।

গত ৩ মার্চ গণফোরামের এ দুই নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে এর আগে সুলতান মনসুর সমকালকে বলেন, তিনি তার এলাকার জনগণের স্বার্থের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অসম্ভব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভোটাররা তাকে ভোট দিয়েছেন। তাই নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে শপথের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ জন্য দল থেকে বহিষ্কার কিংবা সদস্যপদ হারানোর ঝুঁকির ব্যাপারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিতে চান না বলে জানান সুলতান মনসুর।

নির্বাচনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার বা সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবে না, যদি তিনি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত না হন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।’

সে হিসেবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বহিষ্কৃত হলে সুলতান ও মোকাব্বিরের এমপি পদে টিকে থাকার সুযোগ নেই। তবে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ১৭৮ ও সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের যোগ্যতা বা অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্পিকার তা নিষ্পত্তির জন্য বা অধিকতর শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে পারবেন।

এর আগে দশম সংসদেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। তখন স্পিকার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিলেন। ইসির পক্ষ থেকে শুনানিও করা হয়। কিন্তু রায় দেওয়ার আগেই সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন লতিফ সিদ্দিকী।

লতিফ সিদ্দিকী ইসির শুনানির এখতিয়ার নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে তা খারিজ হয়ে যায়। পুনরায় আপিলেও তার রিট আবেদন খারিজ হয়। এর মধ্যেই ইসি ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে। তবে শুনানির আগেই ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদের অধিবেশনে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এর আগে সপ্তম সংসদে বিএনপিদলীয় সদস্য ডা. আলাউদ্দীন ও হাসিবুর রহমান স্বপনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। তাদের সদস্যপদ থাকবে কি-না, এ নিয়ে বিতর্ক আদালতে পৌঁছায়। কিন্তু পরে তাদের আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত