এইমাত্র পাওয়া

ঝিনাইদহ সদর-হরিণাকুন্ডু ২ আসনে ধানের শীষ ও নৌকার টিকিট কার ভাগ্যে ? জনতার একাংশ চায় নতুন মুখ

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ থেকেঃ ঝিনাইদহ জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদর উপজেলার একাংশ ও হরিনাকুন্ডু উপজেলা নিয়ে ঝিনাইদহ ২ আসন গঠিত।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলেও আসনটিতে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অপু হেরে যায় দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র তরুন প্রার্থী তাহজিব আলম সিদ্দিকী সমি’র কাছে। দলের মধ্যে কোন্দলের কারণেই যে এমন পরিস্থিতি হয় তা অকপটে স্বীকার করেন দলটির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে জামায়াতের ভোটব্যাংক থাকায় এই আসনটি বিএনপি তাদের ঘাটি হিসাবে মনে করলেও দলটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে কোন্দলের কারণে। এ অবস্থায় উভয় দলের একটি অংশ চাই নতুনমুখ। তবে নতুন হোক পুরাতন হোক ভুলত্রুটি আর কোন্দল মিটিয়ে উভয় দলে শেষ পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী আসবে বলে মনে করছে নেতারা। এখানে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে আওয়ামীলীগ আর গেস্খফতার আতঙ্কে রয়েছে জেলা বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এমনকি শীর্ষ নেতারাও।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডুর উপজেলার ২টি পৌরসভা এবং ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে ঝিনাইদহ ২ আসন গঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭শ ৩৯ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ১লাখ ৯৬ হাজার ১৯৬ জন ও পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৩ জন। সরজেমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আসনটিতে মুলত লড়ায় হবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে। এখানে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরপর ৩বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় বিএনপি প্রার্থী মশিউর রহমান। এছাড়া ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম অপু ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে তাহজিব আলম সিদ্দিকী বিজয়ী হন। আসনটি বরাবরই বিএনপি তাদের ঘাঁটি হিসাবে মনে করে। তবে দলটির একক প্রভাবশালী নেতা জেলা বিএনপির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মশিউর রহমান দুদকের মামলায় নিন্ম আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক থাকায় দলের একটি অংশ নতুন মুখ খুঁজতে শুরু করেছে। আরেক অংশ বলছে মশিউর রহমানই তাদের প্রার্থী, এখানে বিকল্প কেউ মনোনয়ন পাবে না। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটিতে প্রার্থী করা হয় আওয়ামীলীগের একসময়কার হেভিওয়েট নেতা হিসাবে খ্যাত নূর এ আলম সিদ্দিকী কে তবে দু’বারই তিনি পরাজিত হন। এ অবস্থায় ২০০৮ সালে প্রার্থীতায় কৌশল পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগ, নতুন মুখ হিসাবে নিয়ে আসে শফিকুল ইসলাম অপুকে। তিনি হারিয়ে দিতে সক্ষম হন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মশিউর রহমান কে। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে শফিকুল ইসলাম অপু আবার মনোনয়ন পেলেও নূর এ আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজিব আলম সিদ্দিকী সমি দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন।

বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগ। সবমিলিয়ে দলটির মধ্যে স্পষ্ট কোন্দল রয়েছে, মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নতুন-পুরাতন অনেকেই এখন নির্বাচনী মাঠে। আরও যারা আছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস, রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালের পরিচালক নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহূল এবং বিএনপি থেকে মীর লাভলু।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত