এইমাত্র পাওয়া

অকটেন ছাড়াই কলারোয়া সড়কে চলছে ষাটার্ধ বয়সী নিয়ামত আলীর হেলিকপ্টার।

কলারোয়া সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ

এক সময়কার সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অত্যন্ত জনপ্রিয় বাহন ছিল অকটেন খরচ ছাড়াই সড়কে চলা‘হেলিকপ্টার’।

বিশ্বের সব হেলিকপ্টার আকাশ পথে অকটেন খরচ করে চললেও কলারোয়া দেয়াড়ার খোরদো এলাকায় হেলিকপ্টার চলে কায়িকশ্রমে তৈল খরচ ছাড়াই সড়ক পথে।

অবশ্য তৎকালীন সময়ে দেশের প্রায় গ্রামাঞ্চলে তার ব্যপক চলাচল ছিল।ওই হেলিকপ্টারে চড়তে খরচও খুব কম। নতুন প্রজন্মের ভ্রমণকারীরা চমকে ওঠে হেলিকপ্টার সড়কে চলে এ আবার কেমন- কি আজব হেলিকপ্টার।। ঐতিহ্যবাহী ওই ‘হেলিকপ্টার’র বাস্তব হেলিকপ্টারের মত ডানা না থাকলেও আছে দুই চাঁকা।

আছেন একজন দক্ষ বয়োজোষ্ঠ প্রায় ষাটার্ধ বয়সী পাইটল।

আর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা মাত্র একজন।সামনের দিকে অবশ্য কোনও রকম ছোট একটা বাচ্চা উঠানো যায়।

মুলত পায়ে চালানো বাইসাইকেল যার পেছনের কেরিয়ারে যাত্রী বহন করা হয়। কেরিয়ারে বিশেষ কায়দায় কাঠের তক্তা বসিয়ে এর উপর ফোম বা নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে বসার স্থানটি সিট কভারে ঢেকে করা হয় আরামদায়ক বসার উপযোগী।

সঙ্গে যাত্রী-সাধারন আরাম করে পা দিয়ে বসার সুবিধার্তে সাইকেলের পিছনে চাকার দুই পাশে লোহার পা-দানি থাকে। এসব বিশেষ ব্যবস্থার কারণে স্থানীয়সহ অনেকেই এ বাহনের নাম দিয়েছে হেলিকপ্টার।

স্থানীয়রা জানান,একটা সময় শুধু সাতক্ষীরা কলারোয়ার বাসস্ট্যান্ড, মটরসাইকেল স্ট্যান্ড, দেয়াড়ার খোরদো বাজারের বিভিন্ন মোড়,সরসকাটি বাজারের বিভিন্ন মোড় এবং উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার কেন্দ্রিক মোড়সহ কয়েকটি স্থানে যাত্রীর জন্য নিজস্ব হস্ত ও পায়ে চালানো দক্ষ চালকেরা প্রচুর হেলিকপ্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যেতো সেই এ্যনালগ সময়ে । ডিজিটাল যুগের ছোঁয়ায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল,মটর ভ্যান,ইজিবাইক হওয়ায় যাত্রী ঝুকেছে সেদিকে। এখন সবাই মোটরসাইকেলে আসা যাওয়া পছন্দ করে।হারিয়ে গেছে সড়ক পথে চলা ঐতিহ্যবাহী হেলিকপ্টার।

হাতে গোনা দুই একজন দেখা যায়।তার মধ্যে উপজেলার দেয়াড়া মাঠপাড়া গ্রামের ষাটার্ধ বয়োজোষ্ঠ জৈনেক্য মোঃ নিয়ামত আলী গাজী নামের একজন চালকের হেলিকপ্টার এখনো সড়কে মানুষ ও বাসাবাড়িতে মালামাল বহন করতে দেখা যায়। মটর যানের চাপে দুর্দিনে পড়েছে হেলিকপ্টার চালক বয়োজোষ্ঠ নিয়ামতসহ নাম নাজানা পার্শ্ববর্তী কয়েকজন হেলিকপ্টার চালক বলে জানা যায়।

সময়ের বিবর্তনে কালের বাস্তবতায় ওই বাহন এখন হারিয়ে গেছে । হারাতে বসেছে পাকিস্তান আমলেরও আগে থেকে চলা ঐতিহ্যবাহী ওই বাহন হেলিকপ্টার।

বর্তমানে এ বাহনের প্রচলন কম বিধায় পেশা বদলে কেউ ক্ষেত-খামারের কাজ করছেন,কেউ ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

হেলিকপ্টার চালক জৈনেক মোঃ নিয়ামত আলী জানান,যানবাহন তুলনায় দ্রুততার সহিত কম সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেয় বলে এগুলো হেলিকপ্টার নামে পরিচিত। দীর্ঘ বয়স ধরে তিনি হেলিকপ্টার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কয়েক বছর আগেও বাহনটি ভালো চলতো।ব্যাটারিচালিত ভ্যান,মোটরসাইকেলের চেয়ে হেলিকপ্টার যেমন পরিবেশবান্ধব,তেমনি দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও কম।

কিন্তু এখন মানুষের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে তাই এটার চলনও দিন দিন কমে গেছে। দুরবর্তি কোথাও যাওয়ার যাত্রী মেলে না। ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘুরতে হয় এবং খোরদো বাজার কেন্দ্রিক মানুষ ও বাসাবাড়িতে বাজারের মালামাল পৌঁছে দিতে হয় বিধায় খুব বেশি রোজগার করতে পারেন না বলে জানান বর্তমান হেলিকপ্টারের হ্যান্ডেল ধরে সংসারে- ৫-৭ জন সদস্যদের জীবিকা নির্বাহকারী ষাটার্ধ বয়সী জৈনেক মোঃ নিয়ামত আলী গাজী। তাছাড়া দীর্ঘ বছর ধরে হেলিকপ্টার চালকের গোষ্ঠী বুনেদী আওয়ামী ভক্ত এবং জন্মসূত্রে আ. লীগ দলীয় বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধাধদের সহযোগীতাও করেন বলে তিনি জানান।কিন্তূ সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন সহযোগীতা এখনো অবধি পাননি হেলিকপ্টার চালক ষাটার্ধ বয়সী নিয়ামত আলী গাজী এমনটাই আক্ষেপ করে সাংবাদিকদের বলে – সরকারের বিশেষ সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

কলারোয়া (সাতক্ষিরা ) প্রতিনিধি,
দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত