এইমাত্র পাওয়া

নৌকার গণজোয়ার বইছে রাজশাহীতে

রাজশাহীতে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ রেশমের নগরী অর্থাৎ সিল্কসিটি রাজশাহী এখন মেতে আছে নির্বাচনের আমেজে। গাছের লতা পাতার ছায়ার থেকে রাজপথ, অলি-গলিতে পোস্টার, ব্যানারের ছায়াই বেশি চোখে পড়ছে। রাজশাহী মূল শহর পার হয়ে উপশহর নিউ মার্কেট এলাকা পর্যন্ত সর্বত্র চোখে পড়ে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। রাজশাহী এখন সেজে উঠেছে নির্বাচনী ব্যানারের নগরীতে। সাধারণ মানুষজন, এলাকার দোকান কর্মীরা ধারণ করেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীর ব্যাজ ও মার্ক ছাপানো গেঞ্জিতে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহী যেন এখন উৎসবের নগরীতে রূপান্তরিত হয়েছে।

নগরীতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের সমর্থিত সাধারণ মানুষ জনের সংখ্যা বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের থেকে বেশি। কারণ ২০১৩ সালে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বুলবুল নগরীর প্রতি প্রায় উদাসীন ছিলেন। নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক আকর্ষণীয়, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা থাকলেও পরবর্তীতে তা আর বাস্তবে রূপান্তরিত হয়নি। তার এসব কল্পকথা বুলি হিসেবেই রয়ে গেছে। মেয়র থাকাকালীন সময়ে নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন এই বুলবুল। এজন্য অর্ধেকের বেশি সময় তাকে থাকতে হয় কারাগারে এবং বাকি সময় তিনি ব্যস্ত ছিলেন সরকারের উন্নয়নের টাকা নিজের করে নেয়ার কাজে। জনগণের উন্নয়নের টাকা লুট করে স্বর্ণের সাম্রাজ্য গড়েছেন এই ব্যাক্তি। তার নিজের নামে ২৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। ইশতেহারের সিকিভাগ উন্নয়ন না করা বুলবুল সময় পার করেছেন ২০০৮ সালের মেয়র লিটনের উন্নয়নমূলক কাজ দিয়ে।

প্রথমবার সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়ে খায়রুজ্জামান লিটন এখানকার বড় কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। রাস্তা বড় করে সেখানে দৃষ্টি নন্দন ডিভাইডার দেওয়াসহ ফুটপাথ নির্মাণ করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেন। সেই সময় নগরীর উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় লিটন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য সার্বক্ষণিক কাজে লাগান এলাকার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও বেশ তৎপর ছিলেন নগরী পরিচ্ছন্নের ব্যাপারে। ২০১৩ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নিজের সাধ্য মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন লিটন। যা ক্ষমতা প্রাপ্ত মেয়রের থেকে নগরবাসীর চোখে বেশি পড়েছে। এজন্য ২০১৮ সালে রাসিক নির্বাচনে নগরবাসী আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটনকেই এগিয়ে রাখছে। তাছাড়া লিটন সরকার দলীয় প্রার্থী হওয়ায় জনগণ তাকেই এগিয়ে রাখছে।

কিছুদিন আগে দেশে মাদক বিরোধী অভিযানে বিএনপির তৃণমূলের মাদকাসক্ত এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করা হয় এবং বাদবাকি নেতাকর্মীরা পুলিশের ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। জনসম্মুখে আসলেই তাদের আটকের আশংকা রয়েছে। ফলে প্রচার প্রচারণায় এর প্রভাব পড়ছে বুলবুলের। ব্যানার লাগানোর মতোও কর্মী পাচ্ছেন না দুর্নীতিবাজ বুলবুল।

রাজশাহীবাসী লিটনকেই তাদের বিবেচনায় এগিয়ে রাখছে আগামী নগরপিতা হিসেবে। প্রচার প্রচারণায়ও এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগের লিটন। এক কথায় খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো রাজশাহীতেও নৌকার গণজোয়ার বইছে। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা রাজশাহীবাসী ব্যালট বক্সে কাকে জয়ী করে।

মোঃশাহ্ আলম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি, দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত