এইমাত্র পাওয়া

বগুড়ায় ৬৫ স্কুলে দপ্তরি নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ

বগুড়া অফিস:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোপনে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ প্রস্তুতি নেয়ার অভিযাগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন বলে উঠেছে। এবিষয়ে বুধবার (১৮ জুলাই) বগুড়া জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অসমর্থিত সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, ২৭ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত গোপনে গাবতলী উপজেলার ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী পদে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতিটি নিয়োগ প্রার্থীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আজম খান সহ তাঁর লোকজন। এছাড়াও নিয়োগ দেয়ার নামে টাকা নিচ্ছেন গাবতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ও দুর্গাহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু। এদের মাধ্যমে সেই ঘুষের টাকা গ্রহণ করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান। দপ্তরি পদের অনেক প্রার্থী জমি বিক্রয় করে টাকা দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলেন, আমাদেরকে মৌখিকভাবে নিয়োগ প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। দপ্তরি পদে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সেই টাকা তুলছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সহ দুই ইউপি চেয়ারম্যান। শিক্ষা অফিসারের নিরবতাই প্রমাণ করে, তিনিও ঘুষের ভাগ পাচ্ছেন। দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ চুড়ান্ত করার শর্তে শতাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অন্তত ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে। ঘুষ বাণিজ্যের সাথে স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরাও রয়েছেন।

তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সহ কয়েকটি ইউপি চেয়ারম্যান ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী পদে প্রত্যেক প্রার্থীকে চাকরি দিতে টাকা নিয়েছে।

দুর্গাহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ প্রস্তুতির কথা মৌখিকভাবে জেনেছি। নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি।
এবিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আজম খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়োগই হয়নি, নিয়োগ বানিজ্যে কীভাবে হয়েছে ? দপ্তরি পদে দরখাস্ত আহবান করা হয়েছে। যাচাই বাছাই করার পর মেধাভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

এপ্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাহিদা আকতারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দপ্তরি নিয়োগ প্রস্তুতি বা এখন পর্যন্ত তারিখও চুড়ান্ত হয়নি। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের ভিত্তি নেই।

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি,
দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত