এইমাত্র পাওয়া

সাতক্ষীরা কলারোয়ার প্রাচীন বটগাছের কুসংস্কারচ্ছন্ন ইতিহাস।

কলারোয়া সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ও যুগীখালী ইউনিয়ন ঘেসা দলুইপুর বৃহত্তম বাওড়ের উপরে অবস্থিত প্রাচীন আমল থেকে বহুল প্রচলিত স্থান ক্ষুনকারতলার বটগাছ।

যার পেছনে রয়েছে সুন্দর ও বিরাট ইতিহাস।

ঠিক কখন থেকে ক্ষুনকারতলার বটগাছটি একটা কুসংস্কারচ্ছন্ন স্থানে পরিনত হয় সেটা আসলে কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না।

তবে আকৃতিতে সবচাইতে বড় একটা বটগাছ তৈরির পর গাছ পুজারীদের আদলে প্রাচীন আমল থেকে উপাসনা,দান সদ্কার স্থানে পরিনত হয় অশিক্ষিত গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল মানুষের মাঝে।

সকল ধর্মাবলম্বী মানুষেরাও বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য নিয়ে মানতের নামে হাজির হত ওই স্থানে।বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের আগমন বেশি ঘটত ওই বড় বট বৃক্ষের তলা /গোড়ায়।

কথায় বলে,দেখাদেখি চাষ পাশাপাশি বাস এটাকেই মুল্য দিয়ে আসছে ঐ সময়কার অশিক্ষিত সহজ সরল গ্রামাঞ্চলের মানুষ এই পর্যন্ত।

যে কুসংস্কারের ব্যপক প্রভাব পড়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষের উপরও সে সময়।

যার রেশ কাটতে শুরু করে মানুষের ভিতর কোরআন হাদিসের সঠিক জ্ঞানের আলো প্রবেশ এমনকি ডিজিটাল যুগের ছোঁয়ায়।বেরিয়ে আসে সকল মানুষ অন্ধকারাচ্ছ জীবন থেকে।

যদিও হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ কোনো মানুষের আগমন এখানে আর দেখা যায় না সেই অনেক আগে থেকেই ।স্থান পরিবর্তন করে আরাধনা,মানত ও বিভিন্ন উপাসনা করতে বেরিয়ে যায় তারা।যেটার নির্দিষ্ট করে বলার অবকাশ নেই কারো।

ধিরে ধিরে ঐ কুসংস্কার থেকেও বেরিয়ে আসল ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরাও।

তারও বিশেষ আরেকটি কারণ ধরা যায় ওই বৃহত্তম বটগাছটি সম্পুর্ন বিলিন না হলেও বর্তমানে স্থানটিতে মানুষের সমাগম বন্ধ হওয়াতে।

যে অর্ধমৃত বটগাছটিতে বসবাস করত জ্বীন পরীসহ বিভৎস ভীতকর অন্যান্য প্রাণী। ভিড়তে পারত না কোনো মানুষ ওই স্থানে। বর্তমানে সয়ং ঐ স্থানটিতে মানুষেরই বসবাস ।একেবারেই মৃত নয় গাছটি,তবে ইতিপূর্বের ব্যবহৃতের তুলনায় অকেজো । আকারেও ছিল তার ব্যপকতা। কিন্তূ পুনরায় আংশিক দন্ডায়মান গাছটিতে দেখা দিয়েছে কচি পাতা এবং পড়ে আছে গাছের উপর পুরাতন মরা ডাল। স্থানটি ছিল বড় ভয়াবহ সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য।

দিনে দুপুরে যেতেও ভয় হত সকলেরই সেখানে । কিন্তূ এখন তারই নিচে বসবাস সেই মানুষের।বসতবাড়িসহ চাষাবাদ করছে সেখানকার স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী সকল মানুষেরা ।সেই বটগাছটির সয়ংগোড়াতেই বসবাস করছে ১৫-২০টা বা তারও বেশি পরিবার।অবশ্য সেখানে তৈরি হয়েছে একটা গ্রাম /পাড়া ও পাশে ছোট একটি বাজার”যেটা উপজেলার তালুনদিয়া – গড়গড়িয়া বাজার ”নামে পরিচিত। এবং স্থানীয়দের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ছোট্ট একটা ঈদগাহ তৈরি হয়েছে সয়ং বট বৃক্ষের গোড়ায়।যে মানুষেরা ভয় পেত সেখানে যেতে,সেই মানুষই ভয়কে জয় করে বসবাস শুরু করেছে ঐ ভয়াবহ স্থানে এবং করছে এখনও তারা বসবাসসহ চাষাবাদ।পরিস্থান করেছে জ্বীন পরীসহ ভিতকর জীব জন্তু। এমনটাই জানান স্থানীয় মুরুব্বি /বয়োজোষ্ঠরা।তারা আরও জানান,প্রাচীন আমলে ঘনকোয়াশাযুক্ত বাগান ছিল সেখানে।
মানুষের অজান্তেই বাগানের ভিতর বড় হল প্রাকৃতিক নিয়মে ওই বটগাছ।

ধিরে ধিরে বটগাছটি এমন আকৃতি ধারন করল যে, যে কেউ আশ্চর্য হত দেখে।হঠাৎ কোন এক সময় সন্ন্যাসী /গুনিঠাকুর /ঋষি কিংবা এলাকার মানুষের ভাষায় ক্ষুনকার নামের মাথা ভরা জটওয়ালা বয়োজোষ্ঠের আবির্ভাব ঘটে কোন এক এলাকা থেকে সেখানে।কিছু দিন আরাধনা করেন তিনি ওই বটগাছটির গোড়ায়।যাকে গাছ পুজারী বলে ধারণা করেন অনেকেই।

লোকটি ছিল অন্য ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ, হিন্দু কিংবা খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বলে জানা গেছে। সেই তৎকালীন সময় নজরে এলো ওই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সেই মাথা ভরা জটওয়ালা লোকটি এলাকার মানুষের। অবশ্য তখন সকল ধর্মাবলম্বী গ্রামাঞ্চলের মানুষ অশিক্ষিত থাকায় কিছু কিছু মানুষ দান সদকা, মানত করতে মেতে উঠত হিন্দু খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে। যেটা এখনও যশোরের কেশবপুর মান্দারডাঙ্গী দর্গা এলাকায় বেশ কিছু কুসংস্কারের ছোঁয়ার কথা ব্যক্ত করেন অনেকেই।

ওই মান্দারডাঙ্গী দর্গারও রয়েছে আরেক ইতিহাস।সেখানেও রয়েছে এখনও একটা বটগাছ।যেটার বিষয়েও এমন কিছু কথা বলেন বয়োজোষ্ঠরা যে ওই বটগাছটির সাথে সাদৃশ্য ছিল বা আছে।তারা মনে করেন, তৎকালীন সময়ে যেখানেই এমন আকৃতির গাছ জন্মায় সেখানেই ওইসমস্ত কুসংস্কার কাজ চলেছে এবং এখনও কিছু এলাকায় চলছে।যার বাস্তব চিত্র কেশবপুরের মান্দারডাংঙ্গী দর্গাকে ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জৈনেক মোঃ আব্দুর রহমান বলেন , ওই ক্ষুনকারতলার বটগাছটির গোড়ায় দেওয়া হত – টাকা পয়সা, দুধসহ ভাত, মাংস রান্না করে ছোট ছোট ল্যাংটা বাচ্চাদের নিয়ে খাওয়ানো এমনই সব কুসংস্কারচ্ছন্ন্য কাজকর্ম।অবশ্য একটু বড়রাও অর্থাৎ ৫-৭,৮বছর বয়সের কিশোররাও হাজির হত সেখানে । যেটার প্রভাব মুসলমানদের উপরেও কিছু পড়ে সেসময় বলে জানান তিনি । অবশ্য বেশি দিন ঐ সমস্ত কুসংস্কার লাগেনি কাটতে।

ধারনা করা হচ্ছে আনুমানিক২৫- ৩০ বছরের মত আগে থেকেই কমতে থাকে ঐ সমস্ত কুসংস্কার মুলক কর্মকান্ড।এখন তার কোন রেশ নেই ঐ বটগাছটির স্মৃতিতে। শুধুই পড়ে আছে সম্পুর্ন গাছের আংশিক কিছু জীবিত অংশ নিয়ে মরা ডাল।এক সময় জ্বীনেদের উৎপাত বেশি ছিল সেখানে কিন্তু বর্তমানে সয়ং বটগাছটির গোড়াতেই মানুষের বসবাসসহ চলছে পার্শ্ববর্তী কৃষী জমিতে চাষাবাদ ।যার কারণে সকল ভয় নিয়ে দুরিভুত হয়েছে জ্বীন পরীদের উৎপাত।যার সত্যতা ওই এলাকার অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বয়স্ক মানুষই মনে করতে পারবেন যে,বটগাছটি বেশ কিছু বছর আগেও সম্পুর্ন আকৃতির ছিল।কিন্তূ গাছটি বয়সের ভারে ও ঘনবসতিপুর্ন মানুষের চলাচলে এবং নানান কারণে বন উজাড় হওয়াতে – আছে শুধুই বট বৃক্ষের আংশিক জীবিত স্মৃতিটা।যেটা আজ শুধুই ইতিহাস বয়োজোষ্ঠরাসহ ওই বটগাছ বিষয়ে জানা অজানা মানুষের কাছে ।

এদিকে নবীনরা প্রশ্ন তুলে যে,যেটা বর্তমান প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। তাহলে তার আগে কি ক্ষুনকারতলা অস্তিত্ব ছিল না ? বয়োজোষ্ঠরা বলেন, অবশ্যই ছিল।তখন ছিল শুধুই বাগানে ভরা এলাকা।উপজেলার দলুইপুর ও মিরডাংঙ্গা প্রাচীন বাংলার একটি বনাঞ্চল এলাকা ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে।বর্তমান ওই স্থানই উপজেলার দেয়াড়ার বৃহত্তম দলুইপুর বাওড়ের উপরের অংশ জুড়ে আছে তার অবস্থান। তৎকালীন থেকেই ওই সব স্মৃতি জড়ানো স্থান গুলো পরিচিত হয়ে ওঠে মানুষের কাছে।পরবর্তীতে সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে ঘটে যাওয়া কর্ম ও জিনিসের জন্য ক্ষুনকারতলা নামে পরিবর্তিত হয় স্থানীয় ভাবে ।বর্তমানে তা বিলীন হলেও প্রাচীন বেশ কিছু স্মৃতির প্রকাশ পাওয়া যায় । আজও তার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বটগাছটিকে ঘিরে ।

যেটা ধারনকৃত ছবিতে কিছু ফুটে উঠেছে ক্ষুনকারতলার কথা।তবে ক্ষুনকারতলার স্থানটি আংশিক সরকারি জমির আয়াত্ত্যে বলে জানান স্থানীয়রা ।মাথা ভরা জটওয়ালা ক্ষুনকার নামের লোকটির আবির্ভাবে সেই থেকে মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠে ক্ষুনকারতলা নামে। ছবিতে ধারনকৃত বটগাছটির আংশিক আকৃতির ধারনকৃত অবস্থায় থাকা বন উজাড় হওয়া এলাকা ।যেটা আজ নতুন প্রজন্মের কাছে শুধুই ইতিহাস।

কলারোয়া (সাতক্ষিরা ) প্রতিনিধি,
দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত