এইমাত্র পাওয়া

বসবাসের জন্য উপযোগী শীর্ষ ১০ টি দেশের তালিকা

জন্মসূত্রে আমরা সবাই কোন না কোন দেশের নাগরিক। পৃথিবীতে অসংখ্য দেশ থাকলেও সব দেশকে আমরা সমান ভাবে বসবাসের জন্য কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করি না। আপনি ভবিষ্যতে কোন দেশে যেতে চান তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে যে দেশে যেতে চান সেই দেশের সুযোগ সুবিধার উপর।

সাধারণত কোন দেশ কত ‘ভালো’ এটি পরিমাপ করার জন্য কোনো মিটার না থাকলেও বহুদিন ধরে চলে আসা মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা জরিপ করে ইউ এন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তথাকথিত “গুড কান্ট্রি ইনডেক্স” বিচারক দেশসমূহ বিশ্বব্যাপী তাদের ইতিবাচক অবদানগুলোর উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত হয়েছে। এই নির্বাচনটি সাতটি ভিন্ন শ্রেণীর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যেমন – স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, ওয়ার্ল্ড অর্ডার, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, জলবায়ু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সমৃদ্ধি।

জনসম্মুখে কিংবা আড্ডার মাঝখানে অনেকের মধ্যেই দেখেছি ইউরোপীয় দেশগুলোতে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করতে। এই উপমহাদেশের মধ্যে মাইগ্রেট করার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই অনীহা দেখেছি। এটা সাধারণত উন্নত জীবনযাপন এবং সুযোগ সুবিধার কারণে অনেকটা। এক্ষেত্রে তালিকাটা ইউ এন এর মতে অনেকটা এরকম-

১. সুইডেন
সুইডেনে স্বাস্থ্য এবং মেডিকেল খরচ বিপুল পরিমাণ কাউন্টি কাউন্সিল এবং পৌর করের দ্বারা প্রদান করা হয়। কেউ অসুস্থ থাকাকালে তার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করে, কেবলমাত্র ডাক্তারের ফি নিজেকে পরিশোধ করতে হয়। ছাত্র হিসাবে হাউজিং খুঁজছেন, আপনার প্রথম যোগাযোগের পয়েন্ট সবসময় আপনার বিশ্ববিদ্যালয় হতে হবে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রদের জন্য বাসস্থান প্রদান করে।

সুইডেনের ছাত্র ছাত্রীদের প্রায় সবসময়ই প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হল বা ফ্ল্যাটে হাউজিং ব্যবস্থা করা হয়। সুইডিশ পৌরসভাগুলি হাউজিং এবং আবাসিক এলাকায় পরিকল্পনা করে যাতে তারা বয়স্ক ব্যক্তিদের এবং অক্ষমদের প্রয়োজনীয়তাগুলি পূরণ করতে পারে। বর্তমানে গবেষণা, নিউক্লিয়ার প্রজেক্ট পরিচালনা এসব খাতেও অনেক উন্নতি হওয়ায় আপনাদের অনেকেরই পছন্দের তালিকায় সুইডেন জায়গা করে নিয়েছে।

২. ডেনমার্ক
বসবাসের জন্য ডেনমার্ককেও আপনারা রাখতে পারেন শীর্ষে। দেশের লোকজনের চিকিৎসার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার ৯৮ টি লোকাল সুপারভাইজিং ইউনিট এর উপর ভাগ করে দেয়। যারা চিকিৎসা, হাসপাতালে পরিচর্যা বিভিন্ন ভ্যাক্সিনের দায়িত্ব নিয়ে থাকে। শিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক স্কুল ছয় বছরের বয়সে শুরু হয় এবং বিনামূল্যে হয়। পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার আগে, ১৬ বছর পর্যন্ত শিশুদের নতুন ডেনিশ ভাষা এবং সামগ্রিক স্কুল সিস্টেমের ভূমিকা পেতে একটি পরিচায়ক ক্লাস আছে। ড্যানিশ জনগণ সবসময় নতুন নতুন কালচার, নিয়ম, বিচিত্রতা পেতে পছন্দ করে। তাই সেখানকার অভিবাসী হলে আপনিও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে পারবেন।

৩. নেদারল্যান্ডস
ডাচ শহরগুলি অত্যন্ত নিবিড় এবং ঘনবসতিপূর্ণ। প্রধান শহরগুলো ধীরে ধীরে নতুন ভাবে সাজানো হচ্ছে। কেবল মাত্র বাড়ি ঘরের দিকে মন না দিয়ে বিভিন্ন চিত্তবিনোদনের প্রতি সরকার যত্নবান হচ্ছে। রাস্তায় বসার জায়গা, পার্ক, নগর মাঠ এসব গড়ে উঠছে। নেদারল্যান্ডসে কেন্দ্রীয় সরকার আছে এবং যাবতীয় ক্ষমতা কেবিনেটের সদস্যদের অধীনে থাকে। এখানে মুক্ত বাজার অর্থনীতি বিদ্যমান এবং ৫ ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি হয়ে থাকে। ক্যাথলিক অধ্যুষিত এই এলাকায় নারী পুরুষ সবাই কৃষি কাজ থেকে শুরু করে অফিসের কাজে যুক্ত থাকে। চিকিৎসার জন্য অস্বচ্ছল পরিবারগুলোর সরকারি ইন্সুরেন্স করা থাকে এবং ধনীদের নিজস্ব। এপ্লাইড বিষয়গুলার উপর উচ্চশিক্ষার সুবিধা থাকায় চাকরি ক্ষেত্রে নিজদের জনগণের সাথে সাথে অন্য দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরাও সুযোগ পাচ্ছে ভালো।

৪. যুক্তরাজ্য
কোন দেশে যেতে চান এই প্রশ্নের সাথে সাথে আমরা অনেকেই চোখ বন্ধ করে যুক্তরাজ্য বলে ফেলি। পৃথিবীর অন্য সকল দেশের থেকে অধিক সুযোগ সম্বলিত এই দেশটি জীবনধারণের জন্য উপযুক্ত। ব্যস্ততম এই নগরিতে যেমন উচ্চশিক্ষার সব সুযোগ রয়েছে তেমনি বিভিন্ন দেশের মানুষের আগমনের ফলে ভিন্ন কালচারের মিশ্রণও ঘটেছে। চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থার সাথে সাথে বয়স্কদের জন্য নিরাপদ আবাসন এবং তাদের সব ধরণের প্রয়োজন মেটাতে তারা তৎপর। আপনি যুক্তরাজ্যে চাকরি খুঁজছেন, তবে প্রথমে আপনার গবেষণার কাজটি হলো- কোন সেক্টরে সবচেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ রয়েছে। প্রবাসীদের জন্য শীর্ষ খাতে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, কনসালটেন্সি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক সেক্টর। শিল্প, সভ্যতা, স্থাপত্য, সবকিছু মিলিয়ে অনেকের কাছে এটা স্বপ্নের শহর।

৫. সুইজারল্যান্ড
লিস্টে পরবর্তীতে রয়েছে সবুজ রাজ্য সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই বৈচিত্রময়, কারণ সুইজারল্যান্ডের সংবিধান প্রধানত ক্যান্টনগুলোতে স্কুল ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে। সুইস সংবিধানের ভিত্তি স্থাপন করে, যেমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি শিশুকে বাধ্যতামূলক এবং পাবলিক স্কুলগুলিতে বিনামূল্যে শিক্ষাদান করা হয়। সুইজারল্যান্ডের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, শিক্ষা এবং জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। তাই সুইজারল্যান্ড বিশ্বের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থাগুলির মধ্যে একটি দাবি করে।

সুইজারল্যান্ডে স্বাস্থ্যসেবা সার্বজনীন এবং স্বাস্থ্য বীমা সুইস ফেডারেল আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কোনো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্য সেবা নেই, তবে সুইজারল্যান্ডের বাসিন্দাদের বাসস্থান বা দেশে জন্ম গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক। দেশটির প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক অবস্থানের বিকাশ ও শক্তিশালীকরণের জন্য শিল্প – সাহিত্য চর্চা এবং বৈজ্ঞানিক কাজের বিকাশ লক্ষণীয়।

৬. জার্মানি
ইউরোপের স্থাপত্যের ইতিহাসে জার্মান শহরগুলো সাধারণত সব যুগের সাক্ষী। রোমানিক, গোথিক, রেনেসাঁ এবং বারোক শৈলীর ক্রম বিশেষ করে গীর্জাগুলিতে স্পষ্ট দেখা যায়। জার্মানির বেশিরভাগ শহুরে স্থাপত্য উনিশ শতকের চেতনার সাক্ষ্য বহন করে। ম্যানুয়াল ট্রেড, প্রশিক্ষণ, যোগ্যতা, এবং লাইসেন্সিং বিশেষ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রশিক্ষণ এবং যোগ্যতা বৃত্তিমূলক স্কুল এবং ইন্টার্নশীপ এর মাধ্যমে ঘটে। জার্মানি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং প্রযুক্তিগত কলেজ আছে, যা প্রায় সমস্ত স্ব স্ব প্রশাসিত প্রতিষ্ঠানের পৃথক ফেডারেল রাজ্যের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক অধীন। জার্মানরা পাশ্চাত্য বায়োমেডিসিন এবং জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা উভয় উন্নয়নে নেতাদের মধ্যে ছিল। জার্মানিতে বায়োমেডিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যাপক ও উচ্চমানের।

৭. ফিনল্যান্ড
শিল্প সংস্কৃতির পুরাতন রুপকে নতুন ধারায় পাওয়া যায় ফিনল্যান্ডে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকৌশল এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানিতে অনেক এগিয়েছে এ দেশ। নারীদের সমান ভোটদান অধিকার প্রদানের প্রথম দেশ এটি। সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবায় এটি প্যাডিয়াট্রিক, হৃদরোগ এবং মদ্যাশক্তি গবেষণার কাজে উন্নত।

৮. ফ্রান্স
পারিবারিক ভাতা, অবসরকালীন ভাতা এবং বেকারত্বের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তার ফ্রেঞ্চ সিস্টেম স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়। ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম ফরাসি নাগরিকদের জন্য মেডিকেল খরচ এবং হাসপাতালে ভর্তি করে । প্রায় ১০ শতাংশ ছাত্রই বিদেশী এবং বর্তমানে এদের জন্য দেশে বিভিন্ন শিক্ষা ভাতা চালু হচ্ছে।

৯. অস্ট্রিয়া
অস্ট্রিয়া অত্যন্ত শিল্পায়িত একটি দেশ। পর্যটন অর্থনীতিতে প্রচুর পরিমাণে অবদান রেখে যাচ্ছে, বিশেষ করে আল্পসের স্কি রিসোর্ট এবং ভিয়েনায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো। অস্ট্রিয়া বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এবং সমন্বিত সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিগুলির মধ্যে একটি দেশ যা সরাসরি এবং পরোক্ষ কর দ্বারা পরিচালিত। অস্ট্রিয়া বারোটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছয়টি ফাইন আর্ট কলেজ রয়েছে এবং এর জন্য শিল্প সাহিত্যচর্চায়ও কোনো কমতি পাবেন না।

১০. কানাডা
বর্তমান সময়ে সমগ্র বিশ্বে কানাডা শিক্ষাক্ষেত্রে সব ধরণের প্রোগ্রাম অফার করে থাকে। শিল্প সাহিত্যে উন্নতির সাথে সাথে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রি এসব ক্ষেত্রেও এর উন্নতি দেখে অনেকেই একে পছন্দের দেশের তালিকায় রেখেছেন।

উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্য প্রয়োজনে নিজের দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যাত্রার পূর্বে আমরা সবাই এসব ব্যাপারগুলি ভেবে নিতে পারি। অহেতুক তাহলে বিদেশে গিয়ে হয়রানির স্বীকার হতে হবেনা কিংবা আশাহত হতেও হবে না।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত