এইমাত্র পাওয়া

শিবগঞ্জে ভেড়ার উন্নত জাত গাড়ল নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন মাসুদ

মো: শাহ্ আলম:
দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে উন্নীত করতে যুবসম্প্রদায়কে কর্মমুখী ও সজাগ হয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য ও নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধো হয়ে ভেড়ার উন্নত ভারতীয় জাত গাড়ল লালন-পালনে ব্যস্ততম দিন কাটাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের শিবনারায়নপুর গ্রামের মো. মাসুদ রানা।

শিবগঞ্জে ভেড়ার উন্নত জাত এর খামার।

উন্নতজাতের গাড়ল পালন করে ব্যাপক লাভের আশা করছেন তিনি। মাসুদ রানা মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মধুমতি সমাজ উন্নয়ন
সংস্থার উৎপাদন সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় জেলায় একমাত্র তিনিই প্রথম তৈরি করেছেন “মধুমতি এ্যানিমাল নার্চার প্লান”।

২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট মেহেরপুর জেলার তারানগর এলাকা থেকে ভেড়ার উন্নত প্রজাতি ৪৪টি গাড়ল নিয়ে আসেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৯ মাসের মধ্যে গাড়লের
সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭টি। অল্পদিনে গাড়লের সংখ্যা বাড়ার পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও উন্নত বাসস্থান।

খামারে মাটি থেকে ৩ ফুট উঁচুতে মাচান করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিস্কার জায়গাতে রাখা হয় পশুগুলোকে। প্রসব কিংবা মল ত্যাগ করলে সেটা যাতে জমে না
থাকে তার জন্যেও করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গর্ভবতী গাড়লগুলোকে আলাদা স্থানে রেখে বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে।

শুধু তাই নয়, উন্নত পশু গাড়লগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে চারুনভূমি। সেখানে প্রতিদিন লতাপাতা খাইয়ে আবারও নির্দিষ্ট খামারে নিয়ে এসে রাখা হয় তাদের।
বর্ষার দিনে যাতে তাদের খাবার অসুবিধা না হয় সে ব্যবস্থা রয়েছে খামারটিতে। লাভ জনক ব্যবসার সফলতা দেখে হয়তো অনেকেই ঝুঁকে পড়বেন গাড়ল পালনে এমনিটই মন্তব্য করছেন বিশিষ্টজনরা।

খামারটিতে তৈরিকৃত মাচানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত গরমের জন্য রাখা হয়েছে বড় মাপের কয়েকটি
ফ্যান। মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নিজ জমিতে তৈরিকৃত এ এ্যানিমাল নার্চার প্লান দেখতে ছুটে আসে সাধারণ মানুষ। নরম কোমলমতি ঘন লোমে ভরা
শরীরের ছানাগুলোকে কোলে নিয়ে আদর করতে চাই শিশু-কিশোররা।

মিঠন ও বিয়েল নামের দুইজন কর্মচারী দিনরাত পরিচর্যা ও প্রতিপালনের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন। গাড়লগুলোর গায়ে ব্যাপক পরিমাণ লোম থাকায় বছরে দুইবার তা কাঁটা হয়। তবে প্রযুক্তিগত দিকদর্শী দুর্বল হওয়ায় কাজে লাগাতে পারছেন না লোমগুলো।

গাড়লগুলোর চিকিৎসার দিকে দেওয়া হচ্ছে ব্যাপক গুরুত্ব। কিছুদিন পরপর চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনা নিয়ে কাজ করে থাকেন কর্মচারীরা। তবে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর থেকে এ পর্যন্ত ৯ মাসে দুইবার চিকিৎসক সেখানে পা রেখেছেন। এমনকি খামারটির ভাগ্যে জুটছেনাও কোন প্রকার সরকারি ঔষুদ।

এব্যাপারে কথা হয় মুল উদ্দোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদ রানার সাথে। তিনি বলেন, আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহুর রহমতে সফলতা এসেছে এবং আরো আসবে। তবে এলাকার কিছু অস্বাদু ব্যক্তি আমার এমন অার্থ সামাজিক কাজের বিরোধীতা করছে। আমার প্রতিষ্ঠানের জমিতে খামার ও চারুনভুমি থাকার পরও নানা জটিলতা সৃষ্টি করছে এলাকার একটি কুচক্র মহল।

আমি বাধ্য হয়ে শিবগঞ্জ থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। আশাকরি আইনের সঠিক হস্তক্ষেপ ও বিচার পাবো। ঐ চক্রটি গাড়লগুলোকে ফাঁকা আমবাগান দিয়ে চলাফেরা করতে দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি ভয়ভীতি ও বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করছেন মহলটি।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকারের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি। বর্তমানে অভিযোগটির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি, দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত