এইমাত্র পাওয়া

কালীগঞ্জে স্কুলের পিয়নের স্বাক্ষর জাল করে ১১ বছরের বেতন ভাতা হাওয়া

ঝিনাইদহ সংবাদাতাঃ
আমি অন্ধ চোখে দেখি না,তাই প্রধান শিক্ষক আমাকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে বেতন ভাতা তুলে নিয়েছে। ঘটনাটি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ বগেরগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বিদ্যালয়ের পিয়ন ফজলুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১০ বছর ৯ মাসের বেতন ভাতা উত্তোলন করে আতœসাত করেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন ফজলুর রহমান ১৯৯০ মালের ২জানুয়ারি পিয়ন পদের চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৯৪ সালের ১লা জানুয়ারি মাসে তিনি এমপিও ভুক্তি হন। চাকরি করা কালে পিয়ন ফজলুর রহমানের চেখের সমস্যা দেখা দিলে ২০০৫ সালে চোখ অপারেশ করে এবং দু’টি চোখই অন্ধ হয়ে যায়। যে কারনে স্কুলে চাকরি করা তার পক্ষে দুরাহ হয়ে পড়লে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় ।তিনি স্কুল থেকে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেতন ভাতা উত্তোলন করে। পরে প্রদান শিক্ষক জানিয়ে দেয় ফজলু তোমার আর বেতন ভাতা দেওয়া যাবে না।

ফজলুর রহমান অর্থ সংকটের বিষয়টি জানালে প্রধান শিক্ষক বলেন, চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার, তাহলে তুমি কল্যান ও অবসর ফান্ডের টাকা তুলে চোখের চিকিৎসা করাও। এ কথা বলে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর ফজলুর স্বাক্ষর করিয়ে নেয় প্রধান শিক্ষক। পরে প্রধান শিক্ষক কৌশলে একটি সাদা কাগজে পদত্যাগ লিখে গোপন করে রাখে। প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম পদত্যাগ পত্রটি গোপন রেখে পিয়ন ফজলুর রহমান কে বলে তোমার কল্যান ফান্ডের টাকা তুলার জন্য কোটচাঁদপুর রুপালি ব্যাংকের চেক বই এর পাতা দরকার। ফজলু অতি সহজে ৮ টি চেক বই এর পাতা স্বাক্ষর করে প্রদান শিক্ষকের কাছে দেয়। পরে চেক বই এর পাতা শেষ হলে প্রধান শিক্ষক নিজেই ব্যাংক থেকে নতুন বই তুলে নিয়ে পিয়ন ফজলুর বেতন ভাতা উত্তোলন করতে থাকে। এভাবে ২০০৬ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ফজলুর সমস্ত বেতন ভাতা তুলে নিয়েছে প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনা ফজলুর রহমান জানতে পেরে অবশেষে ৭/২/১৮ তারিখে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে অবহিত করেন। নির্বাহী অফিসার গত ৪/৩/১৮ তারিখে ০৫.৪৪.৪৪.৩৩.০০০.১১.০৩৮.১৫.১৫.২২২ নং স্বারকের এক চিঠিতে এক সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সদস্য হলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম। আবদুল আলিম কে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

ইতিমধ্যে তিনি তদন্তের কাজ শুরু করেছেন এবং তদন্তে ঘটনার প্রায় সবই সত্যতার প্রমান মিলছে। পিয়ন ফজলুর রহমানের বেতন ভাতা উত্তোলনের হিসাব নম্বর ১১০০১০১০৪ রুপালি ব্যাংক কোটচাদপুর লিমিটেড শাখা। কোটচাঁদপুর রুপালি ব্যাংক হিসাবে দেখা গেছে ২০০৬ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম নিজেই ফজলুর বেতন ভাতা ব্যাংকে জমা দিয়ে গোপনে উত্তোলন আতœসাত করেছে। প্রধান শিক্ষক বলেছিল ফজলু তোমার কল্যান ও অবসরে টাকা পাবা ৫৫১১ টাকা ও অবসরের ৩২ হাজার ২৬৯ টাকা। এ টাকা দিয়ে তুমি চোখের চিকিৎসা করাবা। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, কত টাকাই প্রয়োজন যে, একজন অন্ধ পিয়নের স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক একটানা ৯ বছর ১০ মাসের ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে আতœসাত করেছে। এ ব্যাপারে ফজলুর রহমানের ছেলে শাহাজান আলী বলেন, আমার বাবার স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১১ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষক তুলে আতœসাত করেছে। তদন্তকারি অফিসার কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার বলেন, তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনার বেশির ভাগই সতত্যর প্রমান মিলছে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাঁর লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে তিনি অনেক সচেতন।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত