এইমাত্র পাওয়া

বাঙালির হাত ধরে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে জোরালো ওষুধ?

হার্ট অ্যাটাক আর স্তন ক্যানসারের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মহিলার মৃত্যু হয় যে অসুখে, তা হল সার্ভাইক্যাল ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’-র রিপোর্ট অনুযায়ী— ২০১৫ সালে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৫৩।

সার্ভাইক্যাল ক্যানসার কোষ। ইনসেটে- অধ্যাপক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর সারা বিশ্বের মধ্যে ভারতের ছবিটা সবচেয়ে খারাপ। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ’ (এনআইসিপিআর) বলছে, প্রতি আট মিনিটে এ দেশে একজন মহিলার মৃত্যু হয় সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে। এনআইসিপিআর-এর রিপোর্টটি ২০১২ সালের। ওই বছর ভারতে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলার সংখ্যা ছিল দেড় লক্ষের মতো। মৃত্যু প্রায় সাড়ে ৬৭ হাজার।

এই সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের সবচেয়ে খারাপ বা বিপজ্জনক ধরনটা হল ‘সিহা’ (SiHa)। তেমন কার্যকরী কোনও ওষুধ নেই। এই ‘সিহা’রই জোরালো ওষুধ আবিষ্কারে এ বার আশার আলো দেখাচ্ছেন এক বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী।

সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রধানত ৬ রকমের হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র রিপোর্ট (২০১৫ সাল) বলছে, সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৭৮ জনই ‘সিহা’র শিকার।

সেই ‘সিহা’ টাইপের সার্ভাইক্যাল ক্যানসার ঠেকানোর লক্ষ্যে কেমোথেরাপির গবেষণায় একেবারেই নতুন একটি পথের দিশা দেখালেন মার্কিন মুলুকের বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে চার দশক আগে ওষুধ বাজারে এলেও, ‘সিহা’ ঠেকানোর তেমন কার্যকরী ওষুধ এখনও পর্যন্ত হাতে আসেনি আমাদের। চন্দননগরের ছেলে দেবাশিসের আবিষ্কারে এ বার সেই রাস্তা খুলে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন।

মহিলাদের জননাঙ্গ এবং গর্ভাশয় (ভ্যাজাইনা ও ইউটেরাস)-এর মাঝের অংশটিকে বলা হয় ‘সার্ভিক্স’ (Cervix)। এটা ইউটেরাসের একেবারে নীচের অংশ। আমাদের ঘাড় যেমন মাথার সঙ্গে শরীরটাকে জুড়ে রাখে, তেমনই ভ্যাজাইনার সঙ্গে ইউটেরাসের যোগসূত্র হল সার্ভিক্স। যা দেখতে চোঙ বা সিলিন্ডারের মতো। তবে খুব সরু হয়। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে, এর ব্যাস কখনওই চার ইঞ্চির বেশি হতে পারে না। হলে, গর্ভপাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই সার্ভিক্স দিয়েই ইউটেরাস থেকে ঋতুস্রাবের রক্ত আসে ভ্যাজাইনায়। আর সঙ্গমের পর শুক্রাণু ওই পথ দিয়েই ভ্যাজাইনা থেকে চলে যায় ইউটেরাসে।

সঙ্গমের সময় মহিলাদের শরীরে থাকা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) গোটা সার্ভিক্সে দ্রুত ছড়িয়ে পড়াই এই ক্যানসারের কারণ। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে সেই ভাইরাস ‘ঘুমন্ত’ অবস্থায় থাকে। সে ক্ষেত্রে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে না। আর যাঁদের সেই ভাইরাস সক্রিয় থাকে, তাঁদের কাউকে কাউকে শিকার হতে হয় সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের। অর্থাত্ ওই ভাইরাস সক্রিয় থাকলেই যে সব সময় সার্ভাইক্যাল ক্যানসার হবে মহিলাদের, এমনও নয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ক্যানসার হয়, কোনও ক্ষেত্রে হয় না। ক্যানসার হওয়াটাই যে আসলে ‘চান্স ফ্যাক্টর’!

তবে অল্প বয়সে সঙ্গম বা বহু নারীর সঙ্গে সংসর্গ করা পুরুষের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলে মহিলাদের সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। আশঙ্কা বাড়ে বহু সন্তানের জন্ম দিলে। এমনকী, কোনও মহিলা যদি বহু পুরুষের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত থাকেন, তা হলেও। সার্ভিক্সে বহু বার সংক্রমণ হলেও এই ক্যানসার হতে পারে। হতে পারে এইডসের ওষুধের জন্যেও।

এই ক্যানসার হলে তলপেটে অসহ্য ব্যথা ও ঋতুস্রাবে গণ্ডগোল হয়। ভ্যাজাইনা দিয়ে প্রায় সব সময়েই রস ও রক্ত বেরোয়। বেরোয় কটু গন্ধও। সঙ্গমের সময় অসম্ভব যন্ত্রণা হয়।

সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের নতুন গবেষণার অভিনবত্ব কোথায়?

প্রয়াত বিজ্ঞানী অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের ছাত্র, টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞানী দেবাশিস ও তাঁর পাঁচ সহযোগীর গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ক্যানসার সংক্রান্ত বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান-জার্নাল ‘অঙ্কোটার্গেট’-এ। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম- ‘স্টিরিও কেমিক্যাল প্রেফারেন্স টুওয়ার্ডস অঙ্কোটার্গেট: ডিজাইন, সিন্থেসিস অ্যান্ড ইন-ভিট্রো অ্যান্টি-ক্যানসার ইভ্যালুয়েশন অফ ডায়া-স্টিরিওমেরিক বিটা-ল্যাকটাম’।

দেবাশিস বলছেন, ‘‘সার্ভাইক্যাল ক্যানসার ‘সিহা’ ঠেকানোর জন্য সাতের দশক থেকেই ‘কোলচিসিন’ জেনেরিক নামের বেশ কয়েকটি ওষুধ চালু রয়েছে বিশ্বে। কিন্তু কোনওটাই তেমন কার্যকরী হয়নি। তা ছাড়াও নানা রকমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (সাইড এফেক্টস) হচ্ছে রোগীদের শরীরে, ওই সব ওষুধের ব্যবহারে।’’

গবেষকদের দাবি, তাঁদের আবিষ্কৃত জৈব যৌগের অণু (যার নাম- ‘বিটা-ল্যাকটাম’) এ বার সেই সমস্যা মেটানোর পথ খুলে দেবে। ওই জৈব যৌগের অণু দিয়ে কোনও ওষুধ বানানো হলে তা ‘সিহা’-র টিউমার কোষ মারতে বাজারে চালু ওষুধগুলির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী ও সফল হবে। একই সঙ্গে, আশপাশের সুস্থ-স্বাভাবিক কোষগুলির পক্ষে তা অনেক কম ক্ষতিকারক হবে। রোগীদের শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকবে না বললেই চলে।

‘সিহা’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের জন্য দায়ী কারা?

যে কোনও ক্যানসারের জন্য দায়ী আমাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন। ২০ হাজারেরও বেশি প্রোটিন রয়েছে আমাদের শরীরে। এখনও পর্যন্ত যে ৪০০ রকমের ক্যানসারের হদিশ মিলেছে, তার জন্য ৭৩টি প্রোটিনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের শরীরে ওই প্রোটিনগুলির ক্ষরণের পরিমাণ নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম বা বেশি হলেই বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হয়। তাই ক্যানসারে আমরা কেউই ‘আক্রান্ত’ হই না। ক্যানসারের ‘বীজ’ আমাদের সকলের শরীরেই আছে। জন্মের সময় থেকে। সেই প্রোটিনগুলির (অঙ্কো প্রোটিন) ক্ষরণের পরিমাণে বাড়া-কমা হলেই ক্যানসারের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

শরীরে ক্যানসারের ছড়িয়ে পড়া রুখতে যে কেমোথেরাপি করা হয়, তার ‘মন্ত্র’ মূলত দু’টি। যে প্রোটিনগুলির ক্ষরণের বাড়া-কমার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হয়, সেগুলিকে হয় ‘মেরে ফেলা’ (কিলিং) বা তাদের ‘বেঁধে বা ঘিরে ফেলা’ (ডকিং)-র কাজটাই কেমোথেরাপির ওষুধগুলির প্রধান কর্তব্য। কেমোথেরাপির ওষুধ শরীরে ঢুকে টিউমার কোষে পৌঁছে ওই দু’টি কাজের কোনও একটি বা দু’টিই করে। আর তা করার জন্য কেমোথেরাপির ওষুধগুলিতে বিশেষ বিশেষ ধরনের জৈব যৌগের অণু থাকে। যাদের বলে- ‘ইনহিবিটর’। এক-এক প্রোটিনের জন্য এক-একটি ইনহিবিটর।

যে সব ইনহিবিটর ‘দুষ্ট’ প্রোটিনদের মেরে বা বেঁধে ফেলে, তাদের নাম- ‘অ্যান্টাগনিস্ট’। আর যারা শরীরের ভাল প্রোটিনগুলিকে ‘জাগিয়ে তুলে’ তাদের দিয়েই ‘দুষ্ট’ প্রোটিনদের বেঁধে ফেলার কাজটা করিয়ে নেয়, সেই ইনহিবিটরদের নাম- ‘অ্যাগনিস্ট’। এরা শরীরের ভাল প্রোটিনগুলির সঙ্গে ‘দুষ্ট’ প্রোটিনদের তুমুল লড়াই বাঁধিয়ে দেয়। ভাল প্রোটিনগুলিকে দিয়েই ‘দুষ্ট’ প্রোটিনদের জব্দ করে।

‘সিহা’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের জন্য দায়ী ‘বিটা-টিউব্যুলিন’ নামে একটা দুষ্ট প্রোটিন। এই প্রোটিনের বেশি ক্ষরণের জন্যই ‘সিহা’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসার হয়। বাজারে চালু ‘কোলচিসিন’ জেনেরিক নামের ওষুধগুলি ওই ‘দুষ্ট’ প্রোটিনকে মেরে বা বেঁধে ফেলে।

কোলচিসিনের দুর্বলতা কোথায়?

দেবাশিসের কথায়, ‘‘আমরা দেখেছি কোলচিসিন টিউমার কোষ মারার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর শরীরের অনেক সুস্থ, স্বাভাবিক কোষও মেরে ফেলছে। তার মানে, শরীরে ঢুকে টিউমার কোষকে নির্ভুল ভাবে চিনতে তার ভুল হয়ে যাচ্ছে! ‘মিসাইল’ অন্য টার্গেটে আছড়ে পড়ার মতো অবস্থা! তার ফলে ওই ওষুধের (কোলচিসিন) অনেক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।’’

আমরা মোটা হই বা রোগা, লম্বা বা বেঁটে, আমাদের কঙ্কালগুলির মূল ফারাকটা হল- তা পুরুষ নাকি নারীর। মানে, আমাদের কঙ্কালটা মূলত দু’রকমের হয়। নারীর কঙ্কাল আর পুরুষের। একই ভাবে বিটা-ল্যাকটাম জৈব যৌগের অণুর কঙ্কালটাও দু’রকমের হয়। ‘সিস’ আর ‘ট্রান্স’। অ্যান্টিবায়োটিকের যাবতীয় ওষুধে বিটা-ল্যাকটামের ‘সিস’ কঙ্কালটাকে ব্যবহার করা হয়। ‘ট্রান্স’ কঙ্কালটা দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিকের ওষুধ হয় না।

দেবাশিসের কথায়, ‘‘বহু দিন ধরেই বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস ছিল, বিটা-ল্যাকটামের ‘সিস’ কঙ্কালটা দিয়ে হয়তো ক্যানসার সারানো যাবে না। সেটা পারবে শুধুই ‘ট্রান্স’ কঙ্কাল। ২০০০ সাল থেকে এ ব্যাপারে বিশ্ব জুড়েই গবেষণা শুরু হয়ে যায় জোর কদমে। কিন্তু সেই ধারণা যে একেবারেই ঠিক নয়, আমরা সেটাই দেখিয়েছি।’’

দেবাশিসের দাবি, বিশ্বে তাঁরাই প্রথম দেখালেন, ‘সিস’ কঙ্কালের বিটা-ল্যাকটাম জৈব যৌগের অণুই ‘সিহা’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের টিউমার কোষগুলিকে মেরে ফেলতে পারে। বেঁধে ফেলতে পারে ওই ক্যানসারের জন্য দায়ী প্রোটিন বিটা-টিউব্যুলিনকে। আর সেটা করতে গিয়ে আশপাশের সুস্থ, স্বাভাবিক কোষগুলিকেও মেরে ফেলে না।

কীসের উপর এই পরীক্ষা সফল হয়েছে?

ইঁদুরের উপর চালানো হয়েছে ওই পরীক্ষা। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তায় সেই পরীক্ষা সফলও হয়েছে।

দেবাশিস বলছেন, ‘‘এর পর আমরা পরীক্ষা চালাব গিনিপিগের উপর। তাতে সফল হওয়ার আশাই বেশি। তার পর মানুষের উপর পরীক্ষা। হিউম্যান ট্রায়াল।’’

গবেষকদের দাবি, ইঁদুরের মেলানোমা-র মতো চামড়ার ক্যানসারও সেরেছে ‘সিস’ কঙ্কালের বিটা-ল্যাকটাম দিয়েই। যে প্রোটিনের (বিটা-টিউব্যুলিন) ক্ষরণের বাড়া-কমার জন্য ‘সিহা’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসার হয়, সেই প্রোটিনের বাড়তি ক্ষরণের ফলেই মেলানোমা-র জন্য দায়ী টিউমার কোষ জন্মায় শরীরে। গবেষকরা দেখেছেন, সেই মেলানোমা-রটিউমার মারতেও বাজারে চালু ওষুধ কোলচিসিনের চেয়ে ৬ গুণ বেশি কার্যকরী হয় ‘সিস’ কঙ্কালের বিটা-ল্যাকটাম।

কী বলছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা?

কলকাতার বিশিষ্ট অঙ্কোলজিস্ট গৌতম মুখোপাধ্যায় বলছেন, এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ। বিভিন্ন রকমের টিউমারের প্রকৃতি বুঝে উঠতেই কালঘাম ছুটে যায় চিকিৎসকদের। কোন টিউমার কত দ্রুত ও কতটা আগ্রাসী হয়ে উঠবে, তা অনেক সময়েই আগেভাগে বোঝা যায় না। ফলে, কোন ক্যানসার দ্রুত ছড়াবে আর কোনটা অত দ্রুত ছড়াবে না, তা বুঝে ওঠা খুব মুশকিল হয়। সে জন্যই কেমোথেরাপি অনেক ক্ষেত্রে ফল দেয় না। এই গবেষণা সেই সমস্যা মেটানোর পথ দেখাতে পারে। তবে ক্লিনিকাল ট্রায়াল বা মানুষের উপর পরীক্ষায় এই গবেষণা কতটা সফল হয়, তার উপরেই সব কিছু নির্ভর করছে।

কলকাতার আর এক অঙ্কোলজিস্ট স্থবির দাশগুপ্তের অবশ্য কেমোথেরাপির এই ধরনের গবেষণায় ততটা আস্থা নেই। তাঁর কথায়, ‘‘ইঁদুর, গিনিপিগের উপর পরীক্ষা চালানো হয় প্রতিস্থাপিত (ট্রান্সপ্ল্যান্টেড) ক্যানসার দিয়ে। কিন্তু মানুষের ক্যানসারটা স্পনটেনিয়াস। স্বতস্ফূর্ত। তাই ইঁদুর, গিনিপিগের উপর পরীক্ষার সাফল্য মানুষে গিয়ে (হিউম্যান ট্রায়াল) অনেক ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।’’

টিউমারের সব কোষও একই ধরনের হয় না। তাদের আচার-আচরণও আলাদা রকমের হয়। তাই কেমোথেরাপি করে টিউমারের কোনও একটি অংশের কোষকে মারলে যে টিউমারের অন্য অংশের কোষগুলি দিয়ে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়বে না, তা সুনিশ্চিত করা যায় না। এমনটাই মনে করেন স্থবির।

কলকাতার আর এক বিশিষ্ট অঙ্কোলজিস্ট সোমনাথ সরকারের বক্তব্য, ‘‘এই ধরনের যৌগ (বিটা-ল্যাকটাম) দিয়ে কেমোথেরাপির ওষুধ বানানোর পরীক্ষা এর আগে হয়নি। তাই এই গবেষণা যথেষ্টই অভিনব। তবে মানুষের উপর পরীক্ষায় তা কতটা সফল হয়, দেখতে হবে।’’

‘ব্রেক’, তবু সামনে দু’টি বড় ‘হার্ডল’!

কেমোথেরাপিতে দেবাশিসের এই গবেষণা অবশ্যই একটা ‘ব্রেক’। অন্তত এমনটাই মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। লক্ষ্যভেদে ‘অর্জুন’ হওয়ার পথে দেবাশিসের সামনে আপাতত দু’টি ‘হার্ডল’। গিনিপিগ আর মানুষের উপর পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেগুলি যদি সফল হয়, তা হলে আর ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হয়তো ‘সিহা’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসার ও মেলানোমার জোরালো ওষুধ বাজারে এসে যেতে পারে।

আর হ্যাঁ, সেই ওষুধ আবিষ্কার হতে পারে এক বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানীর দেখানো পথেই।

নেট থেকে সংগৃহিত ও অনুবাদকৃত সংবাদ সমূহ অফিসে সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদ গুলো ডেস্ক নিউজ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত