এইমাত্র পাওয়া

সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা কপোতাক্ষ নদ এখন অসাধুচক্রের কবলে

কপোতাক্ষ নদ

সরদার কালাম কলারোয়া :

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা ঘিরে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদ

নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ। দেশের ভিতরে ছোট বড় অনেক নদ নদী বিরাজমান। তন্মদ্ধ্যে কপোতাক্ষ নদীর নাম উল্লেখযোগ্য। কপোতাক্ষ নদীর নাম জানে না এমন লোক দেশে নেই বললেই চলে। এমনকি দেশের বাইরেও কপোতাক্ষ নদীর কথা ছড়িয়ে রয়েছে।কিন্তূ হঠাৎ কয়েকটি বছর কপোতাক্ষ নদ ভরাট ও পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে । জনদুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান আ. লীগের সরকার এক মহতি উদ্দোগ হাতে নেন। শুরু করেন কপোতাক্ষ নদী খননের কাজ এবং সেই সাথে বেড়িবাধ নির্মাণের কাজ ।সেই কপোতাক্ষ নদ স্রোতের জলধারা পুর্বের ন্যয় ফিরে পেতে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছেন আ. লীগ সরকার। একপর্যায়ে কপোতাক্ষ নদ খনন ও বেড়িবাধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ফিরে আসে নদীর হারানো জৌবন। পুর্বের ন্যয় নদের স্রোত ধারা চলমান।

কপোতাক্ষ নদীর দীর্ঘদিনের মৃত স্রোতকে পুনরায় জীবিত জৌবন ফেরাতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন। যার কারনে আজ কপোতাক্ষ নদ ঘেরা চতুর্দিকের মানুষ ঐ নদীর তীরে ফসলী জমিতে চাষাবাদের সুবিধা পাচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছেন আ. লীগ সরকার। কিন্তূ, অসাধুচক্র কিছু স্বার্থনেশী মৎস্যজীবিরাও ঝাঁপিয়ে পড়েছে কপোতাক্ষ নদীর উপরে। ঘিরে রেখেছে কপোতাক্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ ধরার ফাঁদ কোমড় বা পাটাজাল দিয়ে। যার ফলে শ্যাওলা আবদ্ধ ভূমিতে পরিনত হয়েছে কপোতাক্ষ নদীর উপরে।পানির বহমান স্রোতের জলধারাকে সম্পুর্ন বাধাগ্রস্থ করেছে অসাধু মৎসজীবিরা।ধিরে ধিরে কপোতাক্ষ নদ পুনরায় ভরাট হয়ে যাবে আবদ্ধ শ্যাওলা পঁচনে এমনটাই আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল । নদীর তলদেশ ভরাটে ভরাটে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষ্গুরুদর্শীরা।

সচেতন মহল বলেন, উপজেলা দেয়াড়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী কপোতাক্ষ নদীর বিভিন্ন্য স্থানে এমন কাজ করা হয়েছে। যেটা অপসারণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন ।অতিব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে কপোতাক্ষ নদীর মাঝখান বা পাশ দিয়ে বাঁশের বাধ,পাটাজাল, নেট, ঘুনী চারো বিভিন্ন মাছ ধরার উপকরন দিয়ে কোমড় ঘেরা স্বার্থনেশী মৎস্যকদের কবল থেকে আবদ্ধ শ্যাওলা অপসারণ করা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কপোতাক্ষের স্রোত ধারাকে বহমান করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করার । কপোতাক্ষে আবদ্ধ অবস্থায় থাকা শ্যাওলা যদি জালে আটকানো স্বার্থনেশী বা অসাধুচক্র মাছুরীদের কবলে পড়ে থাকে কপোতাক্ষ নদীর সকল স্থান তাহলে অচিরেই নদী ভরাট এবং স্রোতধারা ব্যহত হবে। শ্যাওলা পঁচন ধরে নদীর তলদেশ ভরাটে ভরাটে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে খনন করা কপোতাক্ষ নদী।পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনসাধারণ। সেই সাথে সরকারের অর্থ ব্যয় করে কপোতাক্ষ খননের কাজ হবে জলানজলি। রাজস্ব হারাবে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খনন করা কাজের দিক থেকে।পুনরায় করতে হবে খননের কাজ।ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় , খোরদো বাজারস্থ ব্রিজ এলাকা থেকে কাশিয়াডাংগা ত্রিমোহীনি ঘাট এবং খোরদো ব্রিজ থেকে মাটশিয়া ঘাট পর্যন্ত একাধিক স্থানে এমন জনহীতকর কাজ করে রেখেছে অসাধুচক্র মৎস্যজীবিরা।যেটা শ্যাওলা আবদ্ধ হয়ে পঁচন ধরে কপোতাক্ষ নদ ভরাট ও পানি প্রবাহ সল্প বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা যায় অসাধুচক্রের মধ্যে রয়েছে, খোরদো, চাকলা, পাকুড়িয়া, দেয়াড়া, একাধিক গ্রামাঞ্চলের কিছু অসাধুচক্রের মৎস্যজীবিরা। অতি – দ্রুত অপসারণ ও জড়িতদের খতিয়ে দেখে ঐ সকল অসাধুচক্রের হাত থেকে কপোতাক্ষ নদীর স্রোতের জলধারা চলমান ও কপোতাক্ষ নদকে রক্ষা করতে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সচেতন মহল ।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত