এইমাত্র পাওয়া

একজন সংবাদকর্মীর কষ্টের জীবন যাত্রা! লক্ষ্য শুধু একটুখানি ভালোবাসা ও সম্মানীয় জীবন

সংবাদকর্মীর

সরদার কালাম, কলারোয়া :
আজ পাঠকদের জন্য একজন একজন সাংবাদিক- সংবাদকর্মীর জীবনযাত্রা বর্নানা তুলে ধরা হলো। আসলে এই পেশার মানুষ গুলো প্রকৃতপক্ষে পত্রিকার মালিক, রাষ্ট্র ও সমাজের নিকট থেকে কি পেয়েছে? একজন সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীর সাথে একজন ক্যামেরা ম্যান,একটি ল্যাপটপ, একটি ক্যামেরা,একটি মটর সাইকেল-গাড়ি, একটি ইন্টারনেট মডেম তার পাশাপাশি এমবি, আসুন জেনে নেই একজন প্রতিদিনের পরিশ্রম সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায়,সারাদিন সংবাদ সংগ্রহ করেন। কোথায় গোসল? কোথায় ভাত? কোথায় বিশ্রাম ?

সন্ধ্যার পর ল্যাপটপে নিয়ে বসে তারপর সংবাদ ভালোভাবে সম্পাদন করেন। সংবাদটি লিখেন,তারপর বাছাই করে কোথাও ভুল আছে কিনা। ভুল থাকলে সংশোধন করা। এর ফাকেঁ যদি আবার শুনা যায় একটি দূর্ঘটনা কিংবা কোথাও কোন সমস্যা হয়েছে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছানো।আসুন আরো জেনে নেই একটি সংবাদ আসল ধরন কোন একটি ঘটনা।এই ঘটনায় কত জন লোকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয়? প্রথমে বাদীর কথা, তারপর বিবাদীর কথা, তারপর এলাকাবাসির কথা. তারপর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কথা, তারপর প্রশাসনের কথা।

এই সংবাদ তৈরি করতে কতজন লোকের নিকট যেতে হয় আর কতটা কষ্ট অনুভব করতে হয়। প্রত্যেক লোকের কাছে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলে জানতে হয় বিষয়টির সম্পর্কে।এতে কতটুকু সময়ের প্রয়োজন?এরপরে আসেন সংবাদটি পরিবেশন হয়েছে,আসছে হুমকি দামকি এরপর মামলাও হতে পারে। এখানে আমার প্রশ্ন এগুলো কি সংবাদ কর্মীরা নিজের স্বার্থের জন্য করে না মানুষের স্বার্থের জন্য ? বর্তমানে একজন লোকের বেতন কমপক্ষে দশ হাজার টাকা। তাহলে সংবাদকর্মী আর ক্যামেরা ম্যানসহ দুইজনের বেতন কমপক্ষে মোট ২০হাজার টাকা। এরপরে অাসেন, মটর সাইকেল প্রতিমাসে ৩০ লিটার পেট্রোল, ৩হাজার টাকা,নেট বিল হতে পারে ২ হাজার টাকা,চাঁ-নাস্তা হতে পারে ৬ হাজার টাকা।

তাতে মোট দুইজন ব্যক্তির প্রতিমাসে কমপক্ষে ৪০হাজার টাকা প্রয়োজন। এরপরে আসেন মিডিয়ার অফিস থেকে বেতন, শুধু সংবাদ-কর্মীর জন্য সামন্য কিছু বেতন পেয়ে থাকে তা পকেট খরচ হিসেবে। এই বেতন দিয়ে কি পরিবার চলে?

এরমধ্যে যদি কেউ মনে করেন ঘুষ খায় আসেন ঘুষের সম্পর্কে জেনে নেই, গ্রামগঞ্জের সংবাদ টাকা তো দুরের কথা একগ্লাস পানিও পায় না। আসুন শহরের সংবাদ সরকারি অফিস আদালতের দূর্নীতি ধরা পড়লো এখানে আসলো কোন ক্ষমতাসীন ব্যক্তির ফোন বা হুমকি সে আমার লোক। এরমধ্যে কেউ যদি বলেন তাহলে চলে কিভাবে? একজন সাংবাদিকের কাছে কি প্রতিদিন দূর্নীতির তথ্য আসে? আসতে পারে প্রতিমাসে একটি আবার দুইমাস পরেও একটি কিন্তু তা প্রচার করবে কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ার আগেই কোন বড় ধরনের ব্যক্তির ফোনে আতংকিত হয়ে যায়।

তাহলে এতকষ্ট করার পর কেন সাংবাদিকেরা বেতন পাচ্ছেনা,ভাতা পাচ্ছেনা।
সাংবাদিকরা তো রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ভ। একজন শ্রমিক যদি প্রতিমাসে বেতন পেতে পারেন তাহলে একজন সাংবাদিক পাবে না কেন ? পরিশেষে,কোন সংবাদ-কর্মী টাকার আশায় সাংবাদিকতা করে না, সম্মান আর মানুষের ভালোবাসার জন্য সাংবাদিকতা করেন। সত্য ঘটনা তুলে ধরা, অসহায় মানুষের কথা বলাই সাংবাদিকের দায়িত্ব। দেশে যে সরকার ক্ষমতায় আসুক উন্নয়নের কথা কারা তুলে ধরেন বিশ্বের কাছে সাংবাদিক না অন্যরা। দেশের প্রতিটা কাজেই সাংবাদিকদের অবদান রয়েছে এবং আছে থাকবে যতদিন পৃথিবী আছে।

কিছু লোকের মুখে মাঝে মাঝে শুনতে পাই সংবাদকর্মীর চাঁদাবাজি করে। তাই বলে কি সবাই? অবশ্যই না! কিছু মানুষের সংবাদকর্মী হিসেবে জীবন চলে নেশা এবং সম্মানীয় জীবন ও ভালোবাসার আশায়! কত মেধা এবং ব্রেন ক্ষয় করে একটি সংবাদ তৈরি করতে হয়, যেসকল সাংবাদিক ভাইয়েরা করে তারাই শুধু উপলব্ধি করতে পারে! ফাকে গোল দেয় হলুদ সাংবাদিকতা পেশার কপিবজেরা কিংবা উপরে ভাড়ায় চালিত বড় ভাইদের সর্নাপর্ন হওয়া মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তি! তাই বলে কি সবাই? অবশ্যই না! সৎ ও সত্য কথা অসহায় মানুষের সেবায় বিলিয়ে দেওয়া মানুষ এখনো আছে জগতে। কিছু অপকর্মকারী আছে! তবে খুব সীমিত! এটা সম্পর্কে একটু জানি, কোন ব্যক্তি অপকর্ম করলে ১হাজার টাকার উপরে কেউ ঘুষ দেয় না। তার আগেও নেতাদের হাত ধরে ফেলেন। আর সাংবাদিকরা তো আপনাদের মতো গরিব অসহায়সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কথা তুলে ধরেন। যখনি দেখেন পাচঁ টাকা পকেটে মধ্যে ভরে দিচ্ছে তখনি বলেন সাংবাদিক চাদাঁবাজি করছে। আর যারা দূর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তাদেরকে কিছু বলতে পারছেন না। তাদেরকে বলবেন কিভাবে তারা অনেক বড় লোক তাদের সাথে যুদ্ধ করে পারবেন না। আসলে সমান চোখে দেখুন। একজন সংবাদকর্মী কতটা কষ্ট করে তা আপনি জানেন না। কখনো যদি জানতেন তাহলে এইভাবে কথা বলতেন না। রোদ্র নেই বৃষ্টি নেই, পানি নেই ২৪টি ঘন্টা গাধাঁর মতো খেটে থাকে।শুধু মাত্র একটুখানি ভালোবাসা ও মানুষের কাছ থেকে সম্মান! এবং অসহায় মানুষের জীবন ও দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্য মিথ্যা তুলে ধরার চেষ্টা! তারই ভিতরে একটুখানি ভালোবাসা ও বিশ্বাস এবং সম্মানীয় জীবন সাংবাদিকতার লক্ষ।

কোন লোককে জীবনে দেখছেন কোমড় সমান পযর্ন্ত পানিতে নেমে অসহায় মানুষের কথা তুলে ধরতে সবাই এসির রুমে বসে বাতাস গ্রহণ করছে আর সংবাদকর্মীর পানিতে নেমে সংবাদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। একটিবারো কি ভেবে দেখেছেন আপনারা?

নেট থেকে সংগৃহিত ও অনুবাদকৃত সংবাদ সমূহ অফিসে সাব-এডিটরগণ সম্পাদনা করে প্রকাশ করে থাকেন। এ জাতীয় সংবাদ গুলো ডেস্ক নিউজ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ তালাশ

অপরাধ জগত